ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে। সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা থেকে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে ডাকযোগে প্রাপ্ত ভোট গণনা করা হচ্ছে, এরপর ইলেকট্রনিক ভোট মেশিন (ইভিএম)-এর ফলাফল গণনা করা হবে।
প্রাথমিক ফলাফলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। সর্বশেষ তথ্যে তৃণমূল ১০৬টি আসনে এবং বিজেপি ১৫২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজ্যের মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির ফলাফল আজ ঘোষণা করা হবে। তবে ফলতা আসনে পুনরায় ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ মে।
ভোটগণনার জন্য রাজ্যজুড়ে ৭৭টি কেন্দ্রে মোট ৪৫৮টি হলে গণনা চলছে। এর মধ্যে চুঁচুড়া আসনে সর্বাধিক ২৭ ধাপে গণনা সম্পন্ন হবে। অন্যদিকে মেটিয়াবুরুজ, সপ্তগ্রাম ও বীজপুর আসনে তুলনামূলকভাবে কম ধাপে গণনা হচ্ছে।
গণনা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে ২৯৩ জন পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি ১৬৫ জন অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক এবং ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রগুলোর আশপাশে যান চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
দুই দফায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রথম দফা ভোটগ্রহণ হয় ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ভোট পড়েছে—প্রথম দফায় ৯৩.১৯ শতাংশ এবং দ্বিতীয় দফায় ৯২.৬৭ শতাংশ।
চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে রাজ্যে কে সরকার গঠন করবে। তবে প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে দুপুরের মধ্যেই একটি সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিছু আসনের ফলাফল পেতে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত ফলাফলের আগে ক্ষমতার সমীকরণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়