1. dsdc.mostafiz@gmail.com : mrahman :
  2. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  3. info@www.media71bd.com : Media 71 :
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষঃ
মোবাইল সেবার মান নিয়ে বিটিআরসিতে ১১ হাজারের বেশি অভিযোগ হোসেনপুরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ২০ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার অধিকতর তদন্ত করবে সিআইডি ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ১ হাজার ৩১৪ জন চার দিনের সরকারি সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, লুলার জয় টানা ছুটি শেষে আজ খুলছে স্কুল-মাদরাসা, কলেজে ক্লাস ১ নভেম্বর থেকে রূপগঞ্জে মাদক বিক্রি-সেবনের দায়ে ১২ জনের কারাদণ্ড স্তন ক্যানসার সচেতনতায় গোলাপি জার্সিতে পাকিস্তান ক্রিকেট দল সংরক্ষিত নারী আসন-২৩: বিএনপির মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে ফাহমিদা মজিদ ঊষা

হালাল উপার্জন কি তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী?

ইসলামিক ডেস্ক
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

অনেকেই মনে করেন, সম্পদ উপার্জনে ব্যস্ত হওয়া দ্বীনদারি ও আল্লাহর ওপর ভরসা বা তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধারণা সঠিক নয়। কোরআন-হাদিসে হালাল উপার্জনকে নিরুৎসাহিত করা হয়নি; বরং জীবিকার প্রয়োজনে পরিশ্রম করা এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধানের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সালাত আদায় হলে তোমরা পৃথিবীর দিগদিগন্তে ছড়িয়ে পড়ো। আর আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করো।’ (সুরা জুমা, আয়াত ১০)।

ইসলামে মানুষের আর্থিক দায়িত্ব পালনের জন্য হালাল উপার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষত নিজের ও নির্ভরশীল পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম ব্যক্তির জন্য উপার্জনের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। হালাল উপার্জনের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় জীবিকা অর্জনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

উপার্জন ও শ্রম নবীদের সুন্নত

নিজের শ্রমে জীবিকা নির্বাহ করা নবী-রাসুলদের জীবনাদর্শের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন ইসলামি গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, হজরত আদম (আ.) কৃষিকাজ, হজরত নুহ (আ.) কাঠমিস্ত্রির কাজ এবং হজরত ইদরিস (আ.) সেলাইয়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হজরত দাউদ (আ.) নিজ হাতে বর্ম তৈরি করতেন এবং হজরত মুসা (আ.) বকরি চরিয়েছেন। (ফাতহুল বারি, ৪/৩০৬)।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নবী-রাসুলদের আদর্শ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তাঁরাই আল্লাহর হেদায়েতপ্রাপ্ত বান্দা। সুতরাং আপনি তাঁদের পথ অনুসরণ করুন।’ (সুরা আনআম, আয়াত ৯০)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও বকরি চরিয়েছেন। যুবক বয়সে হজরত খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসায়িক দায়িত্ব নিয়ে সিরিয়ায় সফর করেন এবং ব্যবসায়িক দক্ষতার পরিচয় দেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগে সায়িব ইবনে আবু সায়িবের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদারত্বও ছিল। সায়িব (রা.) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আপনি আমার ব্যবসায় অংশীদার ছিলেন। আপনি কতই না উত্তম অংশীদার। আপনি ধোঁকা দিতেন না, ঝগড়া-বিবাদ করতেন না।’ (সুনানে আবু দাউদ, ৫/১৭০)।

এসব ঘটনা থেকে বোঝা যায়, জীবিকা অর্জনের জন্য পরিশ্রম করা দ্বীনদারির বিরোধী নয়। বরং সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে উপার্জন করা নবী-রাসুলদের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সম্পদ উপার্জন তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়

অতীতের কিছু সুফি ও ধর্মীয় সাধকের মধ্যে এমন ধারণা ছিল যে, যারা দ্বীনের কাজে নিয়োজিত, তাঁদের দুনিয়াবি উপার্জনের পেছনে সময় ব্যয় করা উচিত নয়। তবে ইসলামি চিন্তাবিদেরা এ ধারণার সমালোচনা করেছেন।

ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কিতাবুল কাসব’-এ এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর যুক্তি হলো, নবী-রাসুলদের চেয়ে দ্বীনের দায়িত্ব ও উম্মতের কল্যাণ নিয়ে বেশি চিন্তিত কেউ হতে পারেন না। অথচ তাঁরাও জীবিকা অর্জনের জন্য শ্রম দিয়েছেন। কেউ পশুপালন করেছেন, কেউ কৃষিকাজ করেছেন, আবার কেউ ব্যবসা করেছেন। তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য হালাল উপার্জনকে দ্বীনদারির পরিপন্থী ভাবার সুযোগ কোথায়?

এ প্রসঙ্গে হজরত ওমর (রা.)-এর একটি বর্ণনাও উল্লেখ করা হয়। একবার তিনি ইবাদতে মগ্ন একদল মানুষকে দেখে তাঁদের পরিচয় জানতে চান। লোকেরা জানায়, তাঁরা আল্লাহর ওপর ভরসা করে থাকেন। এ কথা শুনে তিনি তাঁদের এমন অবস্থানের সমালোচনা করেন এবং বোঝান, মানুষের উপার্জনের ওপর নির্ভর করে বসে থাকাকে প্রকৃত তাওয়াক্কুল বলা যায় না।

বর্ণনায় হজরত ওমর (রা.) জমিতে বীজ বপনের উদাহরণ দিয়ে বোঝান, মানুষকে প্রথমে নিজের দায়িত্ব অনুযায়ী চেষ্টা করতে হবে, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। (কিতাবুল কাসব, পৃষ্ঠা ৮৭-৮৮)।

এ থেকে স্পষ্ট হয়, তাওয়াক্কুল মানে চেষ্টা-পরিশ্রম ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং বৈধ উপায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পর ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করাই প্রকৃত তাওয়াক্কুলের শিক্ষা। তাই কর্মক্ষম ব্যক্তির জন্য বিনা প্রয়োজনে মানুষের কাছে হাত পাতার পরিবর্তে নিজে উপার্জনের চেষ্টা করাই শ্রেয়।

কোন পেশায় উপার্জন করা উত্তম?

ইসলামে হালাল পেশার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং হারাম উপার্জন থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। তবে কোন পেশা সবচেয়ে উত্তম, তা নিয়ে ইসলামি ফিকহে বিভিন্ন মত রয়েছে। কেউ কৃষিকাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, আবার কেউ ব্যবসা-বাণিজ্যকে উত্তম বলেছেন। উভয় মতের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও বর্ণনা রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ নিজ হাতে যা উপার্জন করে, তার চেয়ে উত্তম খাবার কখনো খায় না। আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।’ (সহিহ বুখারি, ৪/৩০৩)।

অন্য একটি বর্ণনায় উত্তম উপার্জন সম্পর্কে জানতে চাইলে হালাল ব্যবসা ও নিজ হাতে উপার্জিত জীবিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৫৮৭৪)।

ইসলামের শিক্ষা হলো, পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কাজটি হালাল কি না, তা বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে। ব্যবসা, কৃষিকাজ, চাকরি কিংবা অন্য কোনো বৈধ পেশা—যে কাজের মাধ্যমেই হোক, শরিয়তসম্মত উপায়ে জীবিকা অর্জন করা প্রশংসনীয়।

সম্পদ উপার্জনে সাহাবি ও সালাফদের দৃষ্টিভঙ্গি

সাহাবায়ে কেরামের অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হজরত আবু বকর (রা.) কোরাইশদের একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। হজরত ওসমান (রা.) ও হজরত তালহা (রা.)-সহ অনেক সাহাবি কাপড়ের ব্যবসা করতেন। (তাবাকাত ইবনে সাদ, ৩/১৮৬)।

হজরত ওমর (রা.)-এর নামে বর্ণিত আছে, কিছু পেশায় সামাজিক মর্যাদা তুলনামূলক কম হলেও তা মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে উত্তম। (ইবনু আবিদ দুনিয়া, ৭/৪৫৫)।

আবু ইসহাক আস-সুবাঈ থেকে বর্ণিত, সাহাবায়ে কেরাম দ্বীনের প্রয়োজনে সচ্ছলতা ও স্বাবলম্বিতাকে পছন্দ করতেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/৩৫৫)। মুহাম্মদ ইবনে সিরিনও মানুষকে ব্যবসায় উৎসাহিত করতেন এবং হজরত আবু বকর (রা.)-এর ব্যবসায়ী পরিচয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন। (ইবনু আবিদ দুনিয়া, ৭/৪৫১)।

সুফিয়ান সাওরি (রহ.)-এর নামে বর্ণিত একটি বক্তব্যে সম্পদকে মুমিনের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। (ইসলাহুল মাল, পৃষ্ঠা ৮৯)।

এসব দৃষ্টান্ত থেকে বোঝা যায়, দ্বীনের প্রয়োজনে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া দোষের নয়। বরং হালাল উপার্জনের মাধ্যমে নিজের দায়িত্ব পালন, পরিবারকে সহায়তা এবং মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখা সম্ভব। তবে সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের সীমারেখা মেনে চলা অপরিহার্য।

হালাল উপার্জনের নির্দেশ দিয়েছে কোরআন

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে হালাল ও পবিত্র খাবার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে, তা থেকে তোমরা আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ১৬৮)।

এ নির্দেশের মাধ্যমে হালাল ও পবিত্র জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই বৈধতার সীমা মেনে চলা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা।

হালাল থেকে বিমুখ হওয়া ও হারাম উপার্জনের পরিণতি

হালাল উপার্জন ও পবিত্র জীবনযাপনের নির্দেশের পাশাপাশি আল্লাহ তাআলা সীমালঙ্ঘন করতে নিষেধ করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদেরকে যা দান করেছি, তা থেকে ভালো ও হালাল বস্তু আহার করো এবং এ ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন কোরো না। করলে তোমাদের ওপর আমার ক্রোধ অবধারিত। আর যার ওপর আমার ক্রোধ অবধারিত, সে তো ধ্বংস হয়ে যায়।’ (সুরা তহা, আয়াত ৮১)।

অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ কোরো না।’ (সুরা নিসা, আয়াত ২৯)।

চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা, জালিয়াতি কিংবা অন্য কোনো অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন ইসলামের নীতির পরিপন্থী। তাই শুধু উপার্জন করাই যথেষ্ট নয়; উপার্জনের পদ্ধতিও হতে হবে বৈধ ও ন্যায়সংগত।

পরিশেষে বলা যায়, হালাল উপার্জন ও আল্লাহর ওপর ভরসা পরস্পরের বিরোধী নয়। ইসলাম মানুষকে দায়িত্বশীল হতে, পরিশ্রম করতে এবং বৈধ পথে জীবিকা অর্জন করতে উৎসাহিত করে। প্রকৃত তাওয়াক্কুল হলো নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করা, হারাম থেকে দূরে থাকা এবং সবশেষে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page