বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনের বিতর্ক ও সমালোচনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো ধরনের হুমকি বা প্রভাব ছাড়াই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের পর বহু সাবেক ডিসিকে ওএসডি ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে বর্তমান ডিসিরা জানিয়েছেন, তারা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করে নিরপেক্ষতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে চান।
গণভোটে সরকারের ‘হ্যাঁ’ সূচকের পক্ষে প্রশাসনিক ভূমিকা রাখার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন জেলা প্রশাসকরা। তাদের ভাষ্য, গণভোটে জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো কার্যক্রমে তারা যুক্ত নন। তবে মাঠপর্যায়ে ভিন্ন গুঞ্জন রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল বিভাগের এক ইউএনও জানিয়েছেন, ‘হ্যাঁ’ জয়ী করতে এক ধরনের চাপ অনুভূত হচ্ছে।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে শরীয়তপুরের ডিসি তাহসিনা বেগম বলেন, ইসির সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে এবং পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই। বরিশালের ডিসি মো. খায়রুল আলম সুমনও জানান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুত সেরা নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।
নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বগুড়ায় সিসিটিভি নজরদারি, চুয়াডাঙ্গায় ভোটারদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতসহ বিভিন্ন বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা বলছেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের সমন্বয়ে যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে।
এদিকে রাজনৈতিক মহল থেকে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর আশঙ্কা প্রকাশ করা হলেও প্রশাসনের দাবি, এবার ফলাফল পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে চললেই বিতর্ক এড়ানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন, সব প্রস্তুতি ঠিক থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশবাসী একটি স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন প্রত্যক্ষ করবে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়