রাজধানীতে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তবে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে শিশুদের পাশাপাশি বয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩২ জন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৫১ জন রোগী।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুর পরিবারের অন্য কোনো শিশু কয়েকদিন আগে হাম আক্রান্ত হয়েছিল। সময়মতো আইসোলেশন না করায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।
হাসপাতালটির মুখপাত্র ডা. আসিফ হায়দার বলেন, কোনো শিশু আক্রান্ত হলে তাকে আলাদা না রাখলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও সহজেই সংক্রমিত হয়। তিনি জানান, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে রোগী আসা কমেছে, তবে ঢাকার বাইরের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
তার মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে মাত্র ৩৪ শতাংশ ঢাকার ভেতরের, বাকিরা আশপাশের জেলা ও অন্যান্য এলাকা থেকে এসেছেন।
চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের শরীরে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তবে দ্রুত হাসপাতালে আনতে পারলে অনেক শিশুই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছে।
চলমান টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো শিশু বাদ পড়লে দ্রুত টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি গর্ভবতী নারী ও শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ মে পর্যন্ত সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৬১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯১ জনে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়।
এছাড়া এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৯৭৯ শিশু। একই সময়ে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬৫৬ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৩১ শিশু এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৯ হাজার ৭৪৬ জন।
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বর্তমানে চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে এক কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ। সরকার এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়