আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পেয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ। এর মধ্যে নির্বাচনি কার্যক্রমে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। বুধবার এ বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইসির বাজেট শাখা সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন পরিচালনায় ব্যয় হবে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, আইনশৃঙ্খলা খাতে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং গণভোট, পোস্টাল ব্যালট ও অন্যান্য খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এর আগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল ২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট যুক্ত হওয়ায় এবার ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।
একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ছাপানো হচ্ছে প্রায় ২৬ কোটি ব্যালট পেপার। এ জন্য ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণভোটের জন্য আলাদা করে নতুন ব্যালট পেপার কেনা হয়নি; সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আগেই কেনা কাগজ ব্যবহার করা হচ্ছে।
গণভোটের প্রচার কার্যক্রমে ছয়টি মন্ত্রণালয়কে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এলজিইডি পেয়েছে ৭২ কোটি টাকা, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ৪৬ কোটি টাকা, ধর্ম মন্ত্রণালয় ৭ কোটি টাকা, তথ্য মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। পাশাপাশি ইসির জনসংযোগ শাখা গণভোট প্রচারে ব্যয় করছে ৪ কোটি টাকা।
ইসির অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ জানান, শুরুতে সংসদ নির্বাচনের জন্য ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। পরে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হলে অতিরিক্ত ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে নির্বাচন ও গণভোটে মোট বরাদ্দ দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রচার-প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। এবার নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ইসির তথ্য অনুযায়ী, দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ১৭ জন।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়