1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ভারতীয় যোগসাজশের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিশন — কমিশনপ্রধান

ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫

পিলখানা হত্যাকাণ্ড দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিত হয়েছিল এবং এর সঙ্গে ভারতীয় যোগসাজশের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ. ল. ম. ফজলুর রহমান। ১৬ বছর আগের এ আলোচিত ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন রোববার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাহিনী দুর্বলকরণ ও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র

ফজলুর রহমান জানান, তদন্তে প্রমাণ মিলেছে যে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরকে দুর্বল করা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল। তার ভাষায়—

“এই বাহিনীটাকে দুর্বল করার ও বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র ছিল। তখন ভারত চেয়েছিল বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে, আর তৎকালীন সরকার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিল।”

মূল পরিকল্পনাকারীদের নাম প্রকাশ

সংবাদ সম্মেলনে মূল পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কমিশনপ্রধান বলেন—

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, শেখ সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, সাহারা খাতুন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারেক সিদ্দিকী, তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ এবং তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল আকবর—তারা সবাই এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, বিডিআর কার্নেজের পর সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছিল এবং প্রতিবেশী একটি দেশ বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। ‘প্রতিবেশী দেশ’ বলতে ভারতকে বোঝানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভারতীয়দের উপস্থিতি ও সংশ্লিষ্টতার দাবি

কমিশনপ্রধান আরও জানান—

“ওই সময় প্রায় ৯২১ জন ভারতীয় বাংলাদেশে এসেছিল, তাদের মধ্যে ৬৭ জনের হিসাব পাওয়া যায়নি।”

তার দাবি অনুযায়ী, এ তথ্যও তদন্তে ভারতীয় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে।

২০০৮ সাল থেকে ষড়যন্ত্র শুরু

কবে থেকে এ পরিকল্পনা শুরু—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, “২০০৮ সাল থেকে, নির্বাচনের আগেই এ ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল।”

বিডিআরের মধ্যে ক্ষোভ ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন

ফজলুর রহমান বলেন, বিডিআরের মধ্যে ডাল-ভাত কর্মসূচি নিয়ে ক্ষোভ, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা এবং কিছু সদস্যের অসন্তুষ্টিও এ ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখে। বিডিআর সদস্য ও সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভিন্ন টানাপোড়েন ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তাপস হত্যাচেষ্টা নিয়ে পাঁচ সেনা কর্মকর্তার গুম হওয়া প্রসঙ্গ

সাবেক মেয়র তাপসকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পাঁচ সেনা কর্মকর্তাকে গুম করা হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন—

“তাদের গুম করা হয়নি; ডিজিএফআইসহ বিভিন্ন সংস্থা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।”

তদন্ত কমিশনের কাজ ও সাক্ষ্যসংগ্রহ

প্রতিবেদন তৈরিতে ২৪৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে—

  • নিহত পরিবারের সদস্য: ১৪ জন

  • রাজনৈতিক ব্যক্তি: ১০ জন

  • অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা: ২ জন

  • সামরিক কর্মকর্তা: ১৩০ জন

  • পুলিশ কর্মকর্তা: ২২ জন

  • সাবেক/বর্তমান বিডিআর–বিজিবি সদস্য: ২২ জন

  • কারাগারে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি: ২৬ জন

  • সাংবাদিক: ৩ জন

  • অন্যান্য বেসামরিক ব্যক্তি: ১৩ জন

সাক্ষ্য দিয়েছেন বর্তমান সেনাপ্রধানও।

কমিশনের উপসংহার

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—

  • পিলখানা হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ছিল,

  • এর পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সবুজ সংকেত’ ছিল,

  • আওয়ামী লীগ দল হিসেবে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে,

  • সাবেক এমপি শেখ ফজলে নূর তাপস ছিলেন ‘প্রধান সমন্বয়ক’,

  • এবং এতে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।

    পিলখানা হত্যাকাণ্ড দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিত হয়েছিল এবং এর সঙ্গে ভারতীয় যোগসাজশের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ. ল. ম. ফজলুর রহমান। ১৬ বছর আগের এ আলোচিত ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন রোববার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    বাহিনী দুর্বলকরণ ও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র

    ফজলুর রহমান জানান, তদন্তে প্রমাণ মিলেছে যে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরকে দুর্বল করা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল। তার ভাষায়—

    “এই বাহিনীটাকে দুর্বল করার ও বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র ছিল। তখন ভারত চেয়েছিল বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে, আর তৎকালীন সরকার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিল।”

    মূল পরিকল্পনাকারীদের নাম প্রকাশ

    সংবাদ সম্মেলনে মূল পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কমিশনপ্রধান বলেন—

    তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, শেখ সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, সাহারা খাতুন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারেক সিদ্দিকী, তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ এবং তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল আকবর—তারা সবাই এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    তিনি আরও বলেন, বিডিআর কার্নেজের পর সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছিল এবং প্রতিবেশী একটি দেশ বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। ‘প্রতিবেশী দেশ’ বলতে ভারতকে বোঝানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    ভারতীয়দের উপস্থিতি ও সংশ্লিষ্টতার দাবি

    কমিশনপ্রধান আরও জানান—

    “ওই সময় প্রায় ৯২১ জন ভারতীয় বাংলাদেশে এসেছিল, তাদের মধ্যে ৬৭ জনের হিসাব পাওয়া যায়নি।”

    তার দাবি অনুযায়ী, এ তথ্যও তদন্তে ভারতীয় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে।

    ২০০৮ সাল থেকে ষড়যন্ত্র শুরু

    কবে থেকে এ পরিকল্পনা শুরু—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, “২০০৮ সাল থেকে, নির্বাচনের আগেই এ ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল।”

    বিডিআরের মধ্যে ক্ষোভ ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন

    ফজলুর রহমান বলেন, বিডিআরের মধ্যে ডাল-ভাত কর্মসূচি নিয়ে ক্ষোভ, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা এবং কিছু সদস্যের অসন্তুষ্টিও এ ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখে। বিডিআর সদস্য ও সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভিন্ন টানাপোড়েন ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    তাপস হত্যাচেষ্টা নিয়ে পাঁচ সেনা কর্মকর্তার গুম হওয়া প্রসঙ্গ

    সাবেক মেয়র তাপসকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পাঁচ সেনা কর্মকর্তাকে গুম করা হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন—

    “তাদের গুম করা হয়নি; ডিজিএফআইসহ বিভিন্ন সংস্থা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।”

    তদন্ত কমিশনের কাজ ও সাক্ষ্যসংগ্রহ

    প্রতিবেদন তৈরিতে ২৪৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে—

    • নিহত পরিবারের সদস্য: ১৪ জন

    • রাজনৈতিক ব্যক্তি: ১০ জন

    • অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা: ২ জন

    • সামরিক কর্মকর্তা: ১৩০ জন

    • পুলিশ কর্মকর্তা: ২২ জন

    • সাবেক/বর্তমান বিডিআর–বিজিবি সদস্য: ২২ জন

    • কারাগারে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি: ২৬ জন

    • সাংবাদিক: ৩ জন

    • অন্যান্য বেসামরিক ব্যক্তি: ১৩ জন

    সাক্ষ্য দিয়েছেন বর্তমান সেনাপ্রধানও।

    কমিশনের উপসংহার

    কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—

    • পিলখানা হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ছিল,

    • এর পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সবুজ সংকেত’ ছিল,

    • আওয়ামী লীগ দল হিসেবে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে,

    • সাবেক এমপি শেখ ফজলে নূর তাপস ছিলেন ‘প্রধান সমন্বয়ক’,

    • এবং এতে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!